বিশেষ প্রতিনিধি, বিশেষ প্রতিনিধি।।
ফ্রান্সের বার্তা সংস্থা এজেন্সি ফ্রান্স প্রেস (এএফপি) গাজা থেকে নিজেদের কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। বার্তা সংস্থাটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানানো হয়।
এএফপির বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘কয়েক মাস থেকে আমরা অসহায়ভাবে দেখছি তারা ভয়াবহ ও অসহনীয় পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। তাদের অনন্য সাহসিকতা, পেশাদারিত্ব ও প্রতিরোধ সত্ত্বেও তাদের পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে উঠেছে।’
বিশ্বের অন্যতম বড় এই সংবাদ সংস্থা মঙ্গলবার এই আবেদন জানিয়েছে। তাদের সাংবাদিকদের একটি সংগঠন সতর্ক করে দিয়েছে গাজায় তাদের সহকর্মীদের অনাহারে থাকতে হচ্ছে।
যদিও গাজার পরিস্থিতি বিশ্ববাসীকে জানাতে এ সাংবাদিকরা ‘গুরুত্বপূর্ণ’, তবু এএফপি ‘জীবনের ঝুঁকির’ কারণে তাদের এবং তাদের পরিবারকে গাজা থেকে অনতিবিলম্বে বের করে আনার সুযোগ দিতে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের কাছে আহ্বান জানায়।
প্যারিস-ভিত্তিক সংস্থাটি তাদের বিবৃতিতে জানায়, ‘কয়েক মাস ধরে, আমরা অসহায়ভাবে তাদের জীবনযাত্রার অবস্থার নাটকীয় অবনতি লক্ষ্য করেছি।’
এএফপি জানিয়েছে, ইসরাইল গাজায় বিদেশী সাংবাদিকদের নিষিদ্ধ করার পর থেকে ফিলিস্তিনি ফ্রিল্যান্সাররা বিশ্বকে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। তবে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষের উচিত তাদের এবং তাদের পরিবারকে অবিলম্বে সরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া। কারণ তাদের ‘জীবন ঝুঁকির মধ্যে।’
সোমবার, এএফপি সাংবাদিকদের সংগঠন সোসাইটি অব জার্নালিস্টস সতর্ক করে দিয়েছে, গাজায় তাদের সহকর্মীরা ক্ষুধার্ত হয়ে মারা যাওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘আমরা যেকোনো মুহূর্তে তাদের মৃত্যুর খবর শোনার আতঙ্কে পাচ্ছি। এই পরিস্থিতি আমাদের জন্য অসহনীয়। আমরা তাদের মৃত্যুর খবর শুনতে রাজি নই।’
সংগঠনটি বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের ঘটনা তুলে ধরেছে। যার মধ্যে রয়েছেন ৩০ বছর বয়সী আলোকচিত্রী বাশার। তিনি সম্প্রতি সামাজিক মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন যে তার শরীর এতোই রোগা হয়ে গেছে যে তিনি কাজ করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছেন।
অ্যাসোসিয়েশনটি বলেছে, ‘১৯৪৪ সালের আগস্টে এএফপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে, সংঘাতে সংস্থাটির অনেক সাংবাদিক প্রাণ হারিয়েছেন। আমাদের সহকর্মীরা আহত এবং কারারুদ্ধ হয়েছেন। কিন্তু আমাদের কেউ কখনো কোন সহকর্মীকে ক্ষুধার্ত অবস্থায় মারা যেতে দেখেছি বলে মনে করতে পারি না।’
বুধবার, আল জাজিরা মিডিয়া নেটওয়ার্ক একটি বিবৃতি প্রকাশ করে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে সঙ্কট নিরসনে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এটি এমন এক পরিস্থিতি যা সাংবাদিকরাও রেহাই পাচ্ছেন না।
মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের দাতব্য সংস্থা অক্সফামও সতর্ক করে দিয়েছে, গাজায় তাদের কর্মীরা অনাহারের মুখোমুখি হচ্ছেন।
গাজার সাংবাদিকদের রক্ষায় আলজাজিরা ও এএফপির এ আহ্বানের মধ্যেই বুধবার ইসরাইলি হামলায় দুই সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গাজার সরকারি মিডিয়া দপ্তর জানায়, তামের আল-জায়ানিন ও ওলা আল-জাবারি নামের দুই সাংবাদিক নিহত হওয়ার মধ্য দিয়ে অবরুদ্ধ উপত্যকাটিতে ২১ মাসের আগ্রাসনে মোট নিহত সাংবাদিকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৩১।